'নিধি' অর্থ ধন; আর 'কুন্ড' অর্থ নির্জন স্থান। অতএব, নিধিকুণ্ড শব্দের অর্থ হচ্ছে নির্জন বা গোপন স্থানে ধন সঞ্চয় করে রাখা। সাধারণত ধন বলতে টাকা পয়সা, অলংকার, জমি, গাড়ি, বাড়ি প্রভৃতি বোঝায়। মানুষ ভবিষ্যতের সুখের আশায় এসব ধন সঞ্চয় করে। রাজার দৌরাত্ম্য, চোরের উৎপীড়ন, ঋণ, দুর্ভিক্ষ ও আপদ হতে মুক্তির নিমিত্ত মানুষ এসব ধন প্রোথিত করে রাখে বা গোপন স্থানে সংরক্ষণ করে রাখে। কিন্তু এসব ধন চুরি, ছিনতাই, আগুন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি কারণে নষ্ট হতে পারে। অপ্রিয় উত্তরাধিকারীগণের হস্তগত হতে পারে। এসব ধন সব সময় অধিকারীর (মালিকের) উপকার সাধন করতে পারে না। পরলোকে গমন করে না। তা ছাড়া, এরূপ ধনের কারণে হিংসা-বিদ্বেষ-লোভ-মোহ সৃষ্টি হতে পারে। প্রাণহানি ঘটতে পারে। পারস্পরিক সুসম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। এসব ধন সুরক্ষিত নয়। তাই বুদ্ধ এগুলোকে প্রকৃত ধন হিসেবে আখ্যায়িত করেননি। নিধিকুণ্ড সূত্রে বুদ্ধ প্রকৃত ধন সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান করেন। দান, শীল, ভাবনা এবং আত্মসংযম দ্বারা অর্জিত পুণ্যসম্পদই প্রকৃত ধন। চৈত্য, সংঘ, শীলবান ব্যক্তি, অতিথি, মাতা-পিতা, বয়োজ্যেষ্ঠদের সেবায় অর্জিত পুণ্যসম্পদই প্রকৃত ধন। এসব ধন স্বয়ং সুরক্ষিত। এই ধন-সম্পদ কেউ হরণ করতে পারে না, কখনো বিনষ্ট হয় না। প্রয়োজনে উপকারে আসে এবং সবখানে অনুগমন করে। অতএব পুণ্য সম্পদই প্রকৃত এবং সুরক্ষিত ধন।
নিধি বা সম্পদ চার প্রকার:
ক. স্থাবর নিধি: ভূমি, সোনা, হীরা ও মূল্যবান রত্নরাজি, অর্থ, বস্ত্র, পানীয়, অন্ন বা এরূপ বিনিময়যোগ্য বা হস্তান্তরযোগ্য সম্পদ।
খ. জঙ্গম নিধি: দাস-দাসী, হাতি, গরু, ঘোড়া, গাধা, ছাগল, ভেড়া, কুকুর ইত্যাদি পশু।
গ. অঙ্গ সম নিধি: কর্ম, শিল্প, বিদ্যা, শাস্ত্র জ্ঞান এরূপ যা কিছু শিখে অর্জন করতে হয় এবং শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ।
ঘ. অনুগামী নিধি: দানময়, শীলময়, ভাবনাময়, ধর্ম শ্রবণময়, ধর্মদেশনাময় পুণ্য যা সবখানে সব সময় অনুগমন করে সুখ লাভের কারণ হয়।
নিধিকুণ্ড সূত্র পড়ে বোঝা যায়, ভোগসম্পদের চেয়ে পুণ্যসম্পদ অর্জন করাই শ্রেয়। সুতরাং নিধিকুন্ড সূত্রের তাৎপর্য অপরিসীম।
অনুশীলনমূলক কাজ |
Read more